News
| Title | : | বিপিপিএ-এর ১৭টি ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন |
|---|---|---|
| Description | : | বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৭টি সরকারি সংস্থার আওতায় সম্পাদিত চুক্তিসমূহের ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ সংক্রান্ত ১৭টি জাতীয় কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজন শুরু হয় ১৪ মে, ২০২৬ এবং শেষ হয় ২৪ মে, ২০২৬ তারিখে। কর্মশালাগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর সচিব জনাব সিরাজুন নূর চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) জনাব এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। যেসব সংস্থায় ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ পরিচালনা করা হয়েছে সেগুলো হলো বাংলাদেশ পুলিশ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা), মৎস্য অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ পরিচালনার জন্য বিপিপিএ ১৭ জন ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ করে। প্রত্যেক পরামর্শক সংশ্লিষ্ট সংস্থার ২৫টি করে চুক্তি পর্যালোচনা করে খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এসব প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ বিপিপিএ-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালাগুলোতে উপস্থাপন করা হয়। আইএমইডি সচিব বলেন, সরকারি বিভিন্ন ক্রয়কারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ-সব পুনরীক্ষণ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাদের কার্যক্রম আরও উন্নত করার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে, এ-সব প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালার প্রতিপালনের মাত্রাও মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। কর্মশালার উদ্বোধনকালে বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ের নয়টি মূলনীতি রয়েছে। এগুলো হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অর্থের সর্বোত্তম মূল্য নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা, সততা, গুণগত মান, টেকসইতা, সমআচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা। তিনি বলেন, ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব ক্ষেত্রে এসব নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ (পিপিএ, ২০০৬) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর, ২০২৫)-এর আলোকে স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টস (এসটিডি), ই-জিপি নির্দেশিকা এবং টেকসই সরকারি ক্রয় (এসপিপি) চর্চা কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তাও এই পুনরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। তিনি আরও বলেন, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) প্রস্তুত ও ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ এবং ই-জিপি সিস্টেমে এপিপি তথ্য সংযোজন স্বচ্ছতার একটি ধাপ। একই সঙ্গে, বহুল প্রচারিত পত্রিকায় নির্ধারিত সময়ে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও স্বচ্ছতার অংশ। অন্যদিকে, ক্রয় কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সময়মতো সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়া জবাবদিহিতার প্রতিফলন। “মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর সাত দিনের মধ্যে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) জারি করতে হয়। তা না হলে সেটি দক্ষতার ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হয়। সার্বিকভাবে, ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব ক্ষেত্রে এসব নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নির্ধারণ করা,” তিনি উল্লেখ করেন। বিপিপিএ প্রদত্ত নির্ধারিত ফরম্যাট ও টেমপ্লেট অনুসরণ করে ব্যক্তি পরামর্শকরা ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রতিটি কর্মশালায় একজন প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উপস্থাপিত খসড়া প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে খসড়া প্রতিবেদনের ওপর মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন। কর্মশালায় প্রদত্ত সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ সংযোজনের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলো এখন চূড়ান্ত করা হবে। বিপিপিএ তার অর্পিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতি বছর ক্রয় প্রক্রিয়া-উত্তর পুনরীক্ষণ পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি, জনসাধারণের অবগতির জন্য এসব প্রতিবেদন বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। |
| Publication Date | : | 24/05/2026 |