News
| Title | : | বিপিপিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ও ই-জিপি আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ |
|---|---|---|
| Description | : | মাননীয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জনাব জোনায়েদ সাকি এমপি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর ক্রমবর্ধমান তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কার্যকর অংশীজন পরামর্শের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণে বিপিপিএ ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত 'ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়ন, ই-জিপি বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন এবং বিপিপিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি' শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) জনাব এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব জনাব সিরাজুন নূর চৌধুরী। দোহাটেক নিউ মিডিয়া কর্মশালাটির ব্যবস্থাপনা করেছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিপিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকৃত প্রয়োজন নিরূপণ এবং সরকারি ক্রয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অধিকতর সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ক্রয় আইন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ক্রয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে অধিকতর উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কর্মশালায় বিভিন্ন ক্রয়কারী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া এবং গণমাধ্যমের ৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সূচনার অংশ হিসেবে বিপিপিএ-এর পরিচালক জনাব শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম “সরকারি ক্রয়ের আইনগত কাঠামো: ই-জিপি ব্যবস্থার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন। উপস্থাপনায় তিনি বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় সংস্কারের অগ্রযাত্রা, বিপিপিএ প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কাঠামো, ই-জিপি সিস্টেমের অর্জন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) জনাব এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, বিপিপিএ বর্তমান ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, নাগরিকবান্ধব এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি বলেন, "দেশব্যাপী ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত করতে বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের নিয়ে ধারাবাহিক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।" তিনি জানান, অংশীজনদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মশালায় বিপিপিএ-এর জন্য প্রস্তাবিত ১১০-সদস্যবিশিষ্ট জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মত দেন যে, নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম, আইন প্রতিপালন তদারকি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং দেশব্যাপী সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ জনবল পর্যাপ্ত নয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সরকারি সেবার দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সিস্টেমের অধিকতর আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রধান দুটি কারণ হলো: ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্রয় কার্যক্রমে বিলম্ব। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিপিপিএ-এর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-জিপি সিস্টেমের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। আইএমইডি সচিব বলেন, মন্ত্রণালয়-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি ক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে হবে। কারণ, সরকারি ক্রয় আইন, বিধিমালা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া তারা অধীন বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তরসমূহের ক্রয় কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকি করতে পারবেন না।
|
| Publication Date | : | 02/07/2026 |