News

Title : সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যে অগ্রাধিকার বিষয়ে বিপিপিএ-এর পরামর্শ সভা
Description :

সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য একটি পরামর্শ সভা ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি জারি করা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ২৫ক ধারা অনুযায়ী এ বিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশের ২৫ক ধারায় বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সরকারের সচিব জনাব আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, সভায় সভাপতিত্ব করেন। এর আগে বিপিপিএ বৃহৎ ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।

১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় বিপিপিএ-এর পরিচালক জনাব শাহ ইয়ামিন-উল ইসলাম অধ্যাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর, ২০২৫)-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীর ওপর একটি উপস্থাপনা দেন। এতে বিশেষভাবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিনি আরও দুটি বিষয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করেন। এগুলো হলো—স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে উপযুক্ত সীমা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে (এলটিএম) অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা প্রবর্তন।

পরামর্শ সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, বিসিক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রায় ২০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তাঁরা এ সুবিধার আওতাভুক্ত পণ্যের একটি তালিকা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

তাঁরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হিসেবে বিবেচনার জন্য তাতে স্থানীয় উপাদানের ন্যূনতম অনুপাত বা শতকরা হার কত হতে হবে, তা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও অংশগ্রহণকারীরা গুরুত্ব দেন।

এ ছাড়া স্টার্টআপ চিহ্নিতকরণের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড বা সনদায়ন ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিপিপিএ-এর কর্মকর্তারা জানতে চান। স্টার্টআপের সংজ্ঞা নির্ধারণ ও সেগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোনো মানদণ্ড থাকলে তা বিপিপিএ-কে অবহিত করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বিপিপিএ শিগগিরই সংশ্লিষ্ট বিধিমালা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করছে।

Publication Date : 18/10/2026